সর্বশেষ

28.8 C
Rajshahi
রবিবার, জুলাই ১৪, ২০২৪

ডলার সংকটে বন্ধ হচ্ছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশঙ্কা ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের

টপ নিউজ ডেক্স: কয়েক দফা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান দেশের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের। তাই সর্বাধুনিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

এর আগে কয়লা সংকটের কারণে গত ২৫ মে  একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছিল। কয়লার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হতে যাচ্ছে অবশিষ্ট ইউনিটও। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলে অন্তত ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে জাতীয় গ্রিডে। এতে দেশে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ লোডশেডিং।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ডলার সংকটে বিদেশ থেকে আনা যাচ্ছে না কয়লা। বাকিতে দীর্ঘদিন ধরে কয়লা এনে সচল রাখা হয়েছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এতে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার দেনা প্রতিষ্ঠানটির। এই বকেয়া পরিশোধ না করলে সম্ভব হবে না নতুন করে কয়লা আনা।

সূত্র জানায়, পায়রা-১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৩ হাজার টন কয়লা পোড়াতে হয় শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে। কর্তৃপক্ষ যা ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করত। বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমসির মাধ্যমে পরিচালনা হতো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের সমান মালিকানায় বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে গঠিত হয় আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান।

বিগত দিনে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সিএমসি ৬ মাস বাকিতে কয়লা দিয়েছে। অন্তত ৩৯ কোটি ডলার দাঁড়ায় পরে আরও ৩ মাসের বকেয়াসহ ৯ মাসে বকেয়ার পরিমাণ। এই বকেয়া, ডলার সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করতে পারেনি। যে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় চীন থেকে কয়লা আমদানি। ডলার সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও সমাধানে আসতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিসিপিসিএলের একজন প্রকৌশলী জানান, পায়রা থেকে দৈনিক গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১২০০ মেগাওয়াট। যা সরাসরি যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডে। ফলে দেশের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পেত। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলে এর প্রভাব পড়বে সারা দেশেই।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা সঠিক পরিকল্পনায় চললেও চ্যালেঞ্জে রয়েছে প্রাথমিক জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ। দেশের বাহির থেকে বিদ্যুৎ আনা হবে এ ঘাটতি মেটাতে। এছাড়াও নেওয়া হবে বিকল্প বেশকিছু পদক্ষেপ ।

সম্পাদনায়: শাহনাজ সাফা

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles