নওগাঁর বদলগাছীতে সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা!ব্যাংক চেকসহ মাতবর আটক

0
46

মোঃ রুবেল হোসেন,নওগাঁ : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চকআধাইপুর গ্রামের মো: আইন উদ্দীনের ছেলে সেনাসদস্য মো: আলম হোসেন (৪০) এর বিরুদ্ধে ঐ গ্রামের শ্রী: অশিত কুমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় চকআধাইপুর গ্রামের অশিতের স্ত্রীকে জোরর্পূবক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পরে পালিয়ে যাবার সময় গ্রামবাসী ওই সেনাসদস্যকে হাতে নাতে আটক করে এবং তাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধে রাখেন। ধর্ষণের ঘটনার পরদিন এলাকাবাসীর মুখে আলোচনা সমালোচনা শুনে শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টায় অশিতের স্ত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ।ৎ


গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, চকআধাইপুর গ্রামের কয়েকজন মাতবর, রনজিৎ কুমার, আবুল কাশেম, ভানু, অমূল্য, চঞ্চল, উজ্জল, নামে এই সব মাতবর বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর সদস্য আলম হোসেনকে রশিদিয়ে গাছের সাথে বেধেঁ রাখেন। পরে ঐ সেনা সদস্যর বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাঁর পরিবারের লোকজন আপোষ মিমাংসার জন্য গ্রামের মাতবরদের ১লাখ ৫০হাজার টাকার ব্যাংক চেক প্রদান করেন। ব্যাংক চেক পাওয়ার পরে গ্রামের মাতবরগণ ধর্ষণকারী সেনাসদস্য আলম হোসেনকে পালিয়ে যাবার সহযোগিতা করে।

শুক্রবার রাতে শ্রী: অশিত কুমার বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণ মামলার ১নং আসামী সেনাসদস্য আলম হোসেন পলাতক রয়েছে। তবে বদলগাছী থানা পুলিশ চকআধাইপুর গ্রামের প্রভাবশালী মাতবর রনজিৎকে ব্যাংক চেকসহ আটক করেন বলে জানা গেছে। আশিত কুমার বলেন, আমি বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ছিলাম না মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম সেই দিন রাতে প্রাচিরের উপর দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে জোরর্পূবক আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে আমার ছেলে আমাকে জানালে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি এবং থানায় গিয়ে ঐ সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছি।সেনাসদস্য আলম হোসেন এর মা, বাবা, আয়েন উদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ছেলে সরকারি চাকরি করে বৃহস্পতিবার বিকালে ছুটিতে বাড়ি আসছিলেন। তিনি আরও শিকার করে বলেন রাতে অশিতের স্ত্রীর সাথে ঝামেলা হয়েছিলো। বিষয়টি রাতে টাকা দিয়ে মিমাংসা করে রাজশাহী চাকরি করতে চলে গেছে বলেও জানান তিনি। বদলগাছী থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু রায়হান বলেন, চকআধাইপুর গ্রামে ছেলে সেনাবাহিনিতে চাকরি করেন ছুটিতে এসে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় শ্রী: অশিতের স্ত্রীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

কিন্তু পরে ঐ নারী শুক্রবার দুপুরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁর আত্মীয় স্বজন দেখতে পেয়ে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং ভিকটিমের স্বামী অশিত কুমার নিজে বাদি হয়ে ধর্ষণের মামলা করে। ধর্ষণের মামলা ধামাচাঁপা এবং মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণকারীর কাছে থেকে ১লাখ ৫০হাজার টাকার ব্যাংক চেক নিয়ে পালিয়ে যাবার সহযোগিতা করেন মাতবর। মামলা হওয়ার পরে প্রভাবশালী মাতবরকে ব্যাংক চেকসহ আটক করা হয়েছে। তবে সেনাসদস্যকে আটক করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য