নওগাঁর মান্দায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে তালাবদ্ধ রেখে দাওয়াতে শিক্ষকরা

0
69
নওগাঁর মান্দায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে তালাবদ্ধ রেখে দাওয়াতে শিক্ষকরা
ছবিঃ প্রতিবেদক

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায় স্কুলের কক্ষে ছাত্রছাত্রীদের রেখে তালাবদ্ধ করে দাওয়াত খেতে যান প্রধান শিক্ষিকা সহ সকল শিক্ষিক-শিক্ষিকা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুর প্রায় ১১ টার দিকে উপজেলার কশব ইউনিয়নের পাঁজরভাঙ্গা ৮৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগমসহ সকল শিক্ষিক-শিক্ষিকা সিঁহাট্টা স্কুলে দাওয়াত খেতে যান। এতে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও স্কুলে শিক্ষকেরা ফিরে না আসায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতংক বিরাজসহ কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা স্কুলের গেটে এসে তালা ঝুলানো দেখতে পাই ৷ এবং তালাটি ভাঙ্গার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের উদ্ধার করতে না পেরে শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে।

পরে প্রায় সাড়ে চারটার দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসে তালা খুললে ছাত্র-ছাত্রীরা বেরিয়ে আসে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা তিনি সবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে থাকেন ৷

এবিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী রাফিউল, সাকিল, সাথি ও মালেক জানান, প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষিকেরা স্কুলের প্রধান গেটে তালাবদ্ধ করে দাওয়াত খেতে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল, ফারানা ও মমিনুল জানান, বিকাল ৪ টার দিকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের চিৎকারে তালা ভেঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু দুটো তালা দিয়ে যাওয়াই তা সম্ভব হয় না । তখন স্কুলে পানি না থাকায় এক ছাত্র মটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরো আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং তারা চিৎকার করে কান্না শুরু করে ৷ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার প্রক্রিয়াই তালা ভাঙতে না পারায় ব্যর্থ হন।

পরে প্রধান শিক্ষিকা এসে তালা খুলে দিলে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। সাধারণ জনগণের দাবি, স্বেচ্ছাচারী ও ক্ষমতাবান প্রধান শিক্ষিকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আত্মীয় হওয়ায় কাউকে পরোয়া করে না, কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেও তাকে বিভিন্নভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করে এমন শিক্ষিকার হাত থেকে পরিত্রান চাই এলাকাবাসী।

সহকারী শিক্ষিকা নাজনীন সুলতানা এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগমও সত্যতা স্বীকার বলেন, আমরা সকল শিক্ষিক-শিক্ষিকা মিলে দাওয়াতে গিয়েছিলাম, আসতে দেরি হওয়ায় সকল ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলে স্কুলের গেটে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বাক্কার সিদ্দিক জানান, এইমাত্র শুনলাম। কেউ যদি অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদনায়ঃ হাবিবা সুলতানা

আপনার মন্তব্য