নুরজাহান ও মালীর ভিক্ষায় যেন বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন

0
61

মো: রুবেল হোসেন , নওগাঁ : নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানাধীন কীর্তিপুর দোনাইল গ্রামের নুরজাহান বেগম (৬২) প্রায় ২৫ বছর পূর্বে তার স্বামী, তিন মেয়েকে রেখে চলে যায় না ফেরার দেশে। এমন অবস্থায় অভাব আর অনটনের সংশারে তিন মেয়েকে নিয়ে দু‘চোখে ঘোর অন্ধকার দেখে নুরজাহান বেগম। কঠিন এই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবশেষে নুরজাহান বেঁছে নেয় ভিক্ষাবৃওি। খবরের ফেরিওয়ালা খবরের সন্ধানে প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও সকাল সকাল বাসা হতে বাহির হই।

নওগাঁ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে, শীতের সকালে মিষ্টি রোদে এক কাপ লাল চায়ের সাথে মিতালী করে প্রথম চুমুকটা নাদিতেই জীর্ণ স্বীর্ণ পোষাক আর দু’কাঁধে ঝুলানো কয়েকটা ভারী ব্যাগ, সেই সাথে ডান হাতে লাঠি ভর করে শূর্ণ থালা হাথে নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে ‘দুডা ট্যাকা দে বাবা’বলে চিৎকার দেয়,কথাটি শোনা মাত্র দ্রুত আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় এই বৃদ্ধা মহিলার দিকে। বললাম কিছু খাবেন,কথাটি শোনা মাত্র কান্নাজড়িত কন্ঠে আমার দু’হাত চেপে ধরে বলে,হ বাবা সকাল থেকে কিছু খায়নি হামাক অ্যানা খাওয়াবু বাবা? কথাটি শোনামাত্র নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলামনা অবশেষে নাস্তা করালাম,নাস্তা খওয়ানোর পর বললাম চা খাবেন, সে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো আবার চা খামু,চায়ের অর্ডার দিলাম দোকানের ছেলেটা দুকাপ চা হাতে ধরে দিলো দু’জন মিলে চা খাইতে খাইতে আলাপচারিতায় জানতে চাইলাম ভিক্ষা কেন করেন? উত্তরের দু’চোখে ছলছল জল আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নুরজাহান বলে উঠেন তোর চাচা মরে জাবার পর তিন ছোলকে নিয়ে কি করমো কি খাওয়ামো এই বয়সে মানুষের বাড়িতে খাটতেও পারি না তাই মানুষের কাছে হাত পাতি । আরো বলেন, এই ভিক্ষা করেই তিন মাইয়াকে বিয়া দিছি, জায়িরাও কোন খোজ খর নেইন। সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পানকি না এমটা জানতে চাওয়া হলে সে বলে তেমন কোন সহযোগিতা পাইনি ।

তাই ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। এমন আলাপচারিতার ফাঁকে লাল কাপড় পরিধিত এক গাঁধা ঝোলা আর আউলা কেশে আমাদের দু’জনের সামনে এসে মধ্যবয়সী এক ছেলে দাড়ায়, জানতে চাইলাম কি চাও? উত্তরে সে বলে নুরজাহান হামার ফুবাতো বুন হয়। সেও আমাদের সাথে বসে পরলো জিজ্ঞাস করলাম তোমর নাম কি সে বলে হামার নাম বিকাশ চন্দ্র মালী হামার বাড়িও কির্ত্তিপুর দোনাইল। হামরা দু’ভাই বুন এক সাথেই ভিক্ষা করি। বিকাশ চন্দ্র মালী এবং নুরজাহান দু’জনের নামের সাথে ধর্মীয় অমিল থাকায় আমার মনে কৌতুহল জাগে, এমন প্রশ্নে বিকাশ চন্দ্র মালী বলে হামার জন্মের আগে হামার বাপ ধর্ম কুটুম্ব করে, তার সূত্র ধরেই হামরা ফুবাতো ভাই বুন। হামার বুন হামাক অনেক ভালোবাসে, হামার মৃগী ব্যারাম আছে, তাই বাপ মরে যাবার পর ভায়েরা দ্যাখে না, হামার মৃগী ব্যারামের জন্য কেউ কাজে লায়না, তাই হামার বুন হামাক সাথে লিয়ে ভিক্ষা করে। সে আরো বলে হামার এই ব্যারামের জন্যে এক ছোল হওয়ার পর হামার বউ বাপের বাড়ি চলে যায়। হামার ছোল এখন টুতে পড়ে । আমাদের সমাজে আজও অশংখ্য ভিক্ষুক দেখা যায় তবে সবাই যে ভিক্ষা পাওয়ার যোগ্য এটা আমাদের ভুল ধারনা। তবে প্রকৃত গরীর অসহায়দের পাশে বৃত্তশালীদের দাড়ানো নৈতিক দায়িত্ব।

আপনার মন্তব্য