পরকীয়ার বলি হলেন সাবেক স্বামী

0
87

টপ নিউজ ডেক্সঃ পরকীয়া প্রেমের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ফরিদা বেগমকে (৪৫) তালাক দেয় তার স্বামী মিনু বেপারী। পরে ফরিদা বেগম তার প্রেমিক লাভলুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে বিবাহের ছয়দিন পরেই আবার ফরিদা বেগমকে তালাক দেয় লাভলু। তালাক দেয়ার পরেও নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হতো লাভলু-ফরিদা। অবশেষে এই সম্পর্কের জেরেই লাভলুকে হতে হয় খুন।

ঘটনাটি ঘটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বৃষ্ণপুর গ্রামের। এই হত্যাকাণ্ডে ছয় বছর পর সেই ফরিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে ফরিদা বেগম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ও বর্ণনা দেয় সে।

একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও প্রকাশ করে ফরিদা। তার জবানবন্দি অনুযায়ী পরে আব্দুল গফুর (৪০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামী ফরিদা বৃষ্ণপুর গ্রামের ফজর উদ্দিনের মেয়ে। তাকে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল গফুর বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে সোমবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ জুলাই রাতে লাভলু সরকারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। বৃষ্ণপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগানে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে ডেকে নেয় ফরিদা। পরে সহযোগীদের সাথে নিয়ে হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে লাভলুকে খুন করে। পরদিন সকালে ওই বাগান থেকে লাভলুর লাশ উদ্ধার হয়। ওই হত্যাকাণ্ড ঘটনার একই বছরের ১৩ আগস্ট নিহত লাভলুর স্ত্রী নুর জাহান খাতুন (৩০) শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। নিহত লাভলু বগুড়া সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। বগুড়া পিবিআইর পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, লাভলুকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ফরিদা বেগমকে লাভলু তালাক দিলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তারা। ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরেও নিহত লাভলু আসামী ফরিদা বেগমকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে তার সঙ্গে নিয়মিত ঘনিষ্ঠ হত। উল্লেখ্য, সর্বশেষ হত্যাকান্ডের আগে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রলোভনে লাভলুকে ডেকে এনে হত্যা করেন ফরিদা। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফরিদা নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্য জেলায় পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফরিদার দেয়া তথ্যমতে আব্দুল গফুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল গফুরকে আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানায় পুলিশ।

সম্পাদনায়ঃ শাহাদাত হোসাইন

আপনার মন্তব্য