সর্বশেষ

27.5 C
Rajshahi
বুধবার, জুলাই ১৭, ২০২৪

বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক মিলন মেলা

টপ নিউজ ডেস্ক: এবার সিল্ক সিটি রাজশাহীতে বসেছে বাংলাদেশ ভারতের সংস্কৃতির মিলন মেলা।এই নিয়ে পঞ্চম বছরে পড়ল এই অনুষ্ঠান। দুই দেশের শিল্পী, শিল্পানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মিলিত হন, আদানপ্রদান হয় সংস্কৃতির, চিন্তা-ভাবনার এবং চেতনার। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৮ পর্যন্ত চলবে এ মিলন মেলা, যার আয়োজনে রয়েছে ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তিতে রাজশাহীতে চার দিনব্যাপী এই মিলনমেলা। এ মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণুদেব বর্মা, বিশেষ অতিথি হিসেবে এসেছেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী রাম প্রসাদ পাল, বিহার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সৈয়দ শাহনেওয়াজ হোসেন ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের ৩১ সদস্যের প্রতিনিধি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ জিরো পয়েন্ট এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাংগীরের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে অতিথিবৃন্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত পর্যটন মোটেলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে অতিথিবৃন্দকে স্থানীয় গম্ভীরা প্রদর্শন করা হয়। পরে তারা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন এসেছেন প্রতিবেশী দেশ থেকে।

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নেতৃত্বে একটি কালচারাল টিমও এসেছে।দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সত্যম রায়চৌধুরী, মৌ রায়চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী শান্তনু রায়চৌধুরী, চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন, সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য এবং আরও অনেকে। এই দলের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন তপশ্রী গুপ্ত। উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক থেকে শুরু করে রাজশাহী বিভাগের সংসদ-সদস্যরাও। তাদের আগমনের জন্য দিন-রাত কাজ করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও শহরের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। চারদিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে প্রথমদিন (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছিলো ভারতীয় অতিথিবৃৃন্দের আগমনের দিন। এছাড়া সাংস্কৃতিক মিলনমেলা উপলক্ষে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় রাজশাহী কলেজ মাঠে মেলা শুরু হয়েছে।এতে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো থাকবে। এ আয়োজনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশন ছাড়াও রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অর্থ দিয়ে এ আয়োজনে সহযোগিতা করছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ৫টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে পণ্যমেলার উদ্বোধন করেন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি ককর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। উদ্বোধন শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র।

উক্ত মেলায় বিভিন্ন মনোরম পণ্যের ৩৫টি স্টল স্থান পেয়েছে। এ সময় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল জামান, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মমিন, ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

পরদিন (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নগর ভবনের গ্রীন প্লাজায় নাগরিক সংবর্ধনা, বিকাল সাড়ে ৪টা রাজশাহী কলেজের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনা সভা শেষে উভয় দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ও পুঠিয়া রাজবাড়ি পরিদর্শন করা হবে, সকাল ১০টায় নাটোর উত্তরা গণভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শেষদিন (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, ১০টায় তাহেরপুরে দুর্গামন্দির পরিদর্শন, দুপুর ১টায় বাঘা শাহী মসজিদ ও দরগা পরিদর্শন, বিকেল ৪টায় রাজশাহীতে প্রত্যাবর্তন ও চা চক্রে অংশগ্রহণ। চার দিনের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা উপলক্ষে রাজশাহীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।

ব্যানার-ফেস্টুন, রঙিন পতাকা স্থাপন, রাজশাহী কলেজের সামনে থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত সড়ক আলোকায়ন, নগর ভবন, রাজশাহী কলেজ সহ, নগর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবন ও নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড় আলোকায়ন, আলপনা, রাস্তার ডিভাইভারগুলোতে রঙের কাজ সহ রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সম্পাদনা: মো: সাগার আলী

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles