বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ

0
65

টপ নিউজ ডেস্কঃ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ । তামাক চাষ, তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার এবং তামাকের বর্জ্য কতটা ক্ষতিকর পরিবেশের জন্য – সে বিষয়ে জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘টোব্যাকো: থ্রেট টু আওয়ার এনভায়রনমেন্ট’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিএইচও) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস চালু করে ১৯৮৭ সালে । প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি ৩১ মে পালন করা হয়। বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা ধরে তামাক সেবনের সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে দিবসটি প্রবর্তন করা হয়েছে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে । এছাড়াও দিবসটির উদ্দেশ্য ব্যাপক প্রাদুর্ভাব তামাক ব্যবহারের এবং স্বাস্থ্যের উপর এর নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানো, যা বর্তমানে প্রতি বছর মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের ।

বিগত বিশ বছরে দিবসটি সরকার, ধুমপনবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন , জনস্বাস্থ্য সংগঠন পালন করে আসছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে আজ মঙ্গলবার ।

তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন পৃথকভাবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশ্বের ৯০ ভাগ তামাক উৎপাদন হয়, বাংলাদেশ যার মধ্যে অন্যতম। ‘তামাকমুক্ত পরিবেশ, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপিত হতে যাচ্ছে । বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং সমাজের ওপর তামাকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব । বিশ্বের মোট তামাকের ১.৩ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় । আবাদযোগ্য জমিতে তামাক চাষের কারণে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে ।

টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, তামাক দায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৩১ শতাংশ বন-নিধনের জন্য । এছাড়া তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয়ে মিশে দেশের মৎস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত করছে । দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী ইতোমধ্যে পড়েছে হুমকির মুখে ।

এছাড়াও বাংলাদেশেও সিগারেটের ফেলে দেয়া ফিল্টার পরিবেশ অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দূষণের। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত হয়েছে মোট ৭১ বিলিয়ন সিগারেট শলাকা । সিগারেটের ফেলে দেয়া ফিল্টার প্রকৃতির সঙ্গে প্রায় এক দশক সময় নেয় মিশে যেতে , আর মিশে যাওয়ার সময় এ থেকে সাত হাজারেরও বেশি নির্গত হয় রাসায়নিক পদার্থ । কেবল সিগারেটই নয়, জর্দা, গুলের মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যগুলোও প্লাস্টিক কৌটা ও বিক্রি করা হয় পলিথিন প্যাকেটে ভরে- যা অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবেশের জন্য ।

পরোক্ষ ধূমপান তামাকের পরিবেশগত ক্ষতির আরেকটি বড় কারণ। বাংলাদেশের চার কোটিরও অধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বাড়িতে শিকার হয় পরোক্ষ ধূমপানের , যার সিংহভাগই নারী। আচ্ছাদিত কর্মস্থলে এবং পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় গণপরিবহণে যাতায়াতের সময় , এমন ব্যক্তির সংখ্যা যথাক্রমে ৮১ লাখ এবং ২.৫ কোটি। ঢাকা শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় শতকরা ৯৫ ভাগের মুখের লালাতে নিকোটিন পাওয়া গেছে উচ্চ মাত্রায় , যা মূলত পরোক্ষ ধূমপানের ফল।

মৃত্যু ঘটায় পরোক্ষ ধূমপান এবং এটা হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের অন্যতম কারণ।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের জানান, ‘তামাকের কারণে আমাদের আবাদযোগ্য জমি, বনভূমি, মৎস্যক্ষেত্র প্রভৃতি ব্যাপক চাপ পড়ছে সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর । এই তামাক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জলবায়ু এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে । তামাকের আগ্রাসন বন্ধ করতে সরকারের উচিৎ শক্তিশালী আইন ও কর পদক্ষেপ গ্রহণ করা । ।’

সম্পাদনায়ঃ পূরবী রায় ।

আপনার মন্তব্য