মদ নিয়ে এসে ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি

0
34

টপ নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মদ আমদানি করে প্রায় ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টায় পাঁচটি মামলা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টম হাউজ। এসব মামলায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, তার সহযোগী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পরপর তিন দিনে এসব চালান জব্দ করা হয়। মামলা দায়েরের বিষয়টি সোমবার সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের উপকমিশনার (এআইআর শাখা) সাইফুল হক।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পাঁচটি চালান জব্দের ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে ফৌজদারি আইনে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানায় পৃথক পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদমর্যাদার পাঁচজন এসব মামলার বাদী। মামলাগুলোর মধ্যে রোববার চারটি এবং এর আগের দিন একটি করা হয়েছে। পাঁচটি চালানের মধ্যে তিনটি খালাস নিতে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেছিল চট্টগ্রাম নগরীর দোভাষ লেনের জাফর আহমেদের মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তাই তিনটি মামলায় জাফর আহমেদ ও তার প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার এবং অন্য সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে। এই তিন চালানের আমদানিকারক হিসাবে নথিপত্রে যে তিন প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে তাদেরও আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে দুটি চালানের জন্য কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল না হওয়ায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শনাক্ত করা যায়নি। এক্ষেত্রে শুধু আমদানিকরাককেই আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, কাস্টমসের পক্ষ থেকে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো আমরা তদন্ত করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাস্টমস কর্মকর্তা সাইফুল হক বলেন, ‘যাদের নামে আমদানি হয়েছে, তারা জড়িত নয়, এটা এখনো পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। তাদের আইপি হয়তো জাল কিন্তু তাদের নাম ও যে বিল নম্বর দেওয়া আছে, তা তো আর জাল নয়। তারা জড়িত ছিল কি না তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে আমাদের মূল আসামি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তার সহযোগীরা। আমদানিকারকরা আরও পরের আসামি।’

কাস্টমসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তার আইডি থেকে কয়েকটি চালান অ্যাসেসমেন্ট হয়েছে। ওই কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ওই কর্মকর্তার আইডি হ্যাক করেছে কিছু জালিয়াত চক্র। তাই তাকে আসামি করা হয়নি। তবে আইডি হ্যাকের বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস নেওয়া মদবোঝাই দুটি কনটেইনার ২৩ জুলাই নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকা থেকে জব্দ করা হয়। এর একটি কুমিল্লা ইপিজেডের হাশি টাইগার কোম্পানি লি. ও অন্যটি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের বিএইচকে টেক্সটাইল মিলস লি. এর নামে আমদানি হয়েছিল। এই দুই চালানে প্রায় ২৫ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর থেকে মদবোঝাই আরও একটি কনটেইনার জব্দ করা হয়। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের নামে আসা চালানটির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এর পরের দিন বন্দরের ভেতরে মদবোঝাই আরও দুই কনটেইনার জব্দ করা হয়। এর একটি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের নামে ও অপরটি বাগেরহাটের মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে আমদানি করা হয়েছে। এ দুই চালানে প্রায় ২১ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, ফৌজদারি মামলা দায়ের ছাড়াও এসব ঘটনা তদন্তে কাস্টমসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদনায়ঃ শাহাদাত হোসাইন

আপনার মন্তব্য