সর্বশেষ

24.6 C
Rajshahi
Tuesday, December 7, 2021

Tuesday, December 7, 2021

মাঠ গরমের চেষ্টা করছে বিএনপি

রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজায় বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অল্প কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাট ও দোকান বিক্রয় চলছে। এককালীন মূল্য পরিশোধে বিশেষ মূল্য ছাড় !! যোগাগোঃ 01615-33 22 29,01615-33 22 51. Theme Omor Plazaকম্পিউটার,কম্পিউটার এক্সেসরিজ ও মোবাইল মোবাইল এক্সেসরিজ. এবং ইলেকট্রনিক্স পন্য মেলা দোকান স্টল বুকিং ও রেজিস্ট্রেশন চলছে। যোগাযোগ-০১৬১৫-৩৩২২২৯,০১৬১৫-৩৩২২৫১,০১৬১৫-৩৩২২২৬ , ০১৭১৯-২৫০২৪২,০১৭২১-১৮৪৮৩১

টপ নিউজ ডেস্কঃ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ইস্যুতে মাঠ গরমের চেষ্টা করছে বিএনপি। এই দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে দলটি। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। কিন্তু তার অসুস্থতার ধরন নিয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি তারা। এমনকি কী ধরনের চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়া প্রয়োজন যা এখানকার হাসপাতালে নেই- সেই বিষয়েও স্পষ্ট করেননি সংশ্লিষ্ট কোনো চিকিৎসক।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির নেতারা। সরকারের উদ্দেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, তা না হলে আমাদের গণআন্দোলন শুরু হলো। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হবে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গণঅনশনে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল আলমগীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসব হুঁশিয়ারি দেন।
দলীয় প্রধানের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে থেকে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত- বিএনপির সিনিয়র নেতারা এমন কথা বললেও এর আগে খালেদার মুক্তি বা সুচিকিৎসায় তারা কার্যকরী কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি। খালেদা জিয়ার দুই বছর আট দিনের কারাজীবন এবং দেড় বছর ধরে অসুস্থতার সময়কালে তার সুচিকিৎসা, আদালতের লড়াই, মাঠের আন্দোলন- কোনো ক্ষেত্রেই সফল হতে পারেনি বিএনপি। দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি এমন কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি; যাতে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিতে বাধ্য হয় সরকার। ফলে বর্তমান পরিস্থিতে খালেদা জিয়ার জীবন যখন সংকটময় পরিস্থিতিতে, তখন কেনো বিএনপির নেতারা ভিন্ন পথে না গিয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিলেন। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের উচ্চ মহল থেকে যেখানে স্পষ্ট করেছে- ৪০১ ধারায় কোনো বিষয়ে নিষ্পত্তির পর আবার সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে বিএনপির নেতারা আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে দাবি আদায়ে কতটা সফল হবেন এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। এর চেয়ে দল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার

ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করতে পারতেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত গণমাধ্যমকে বলেছেন, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদরা যদি বিচারকের আসনে বসেন, তাহলে তো সমস্যা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনেও এখানে চিকিৎসা করানো যেতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তও তো চিকিৎসকরা দেবেন। রাজনৈতিক কথা বললে তো হবে না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা তো কিছুই বলছেন না। খালেদা জিয়ার মূল চিকিৎসকরাই বলবেন তার কোথায় চিকিৎসা দরকার। তিনি এখন বাংলাদেশের সেরা হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার চিকিৎসা ভালোভাবেই হচ্ছে। যারা এটা নিয়ে নানা কথা বলছেন, তারা একটি রাজনৈতিক ইস্যু সৃষ্টির জন্য বলছেন।
খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তাকে মুক্ত করতে বিভিন্ন মেয়াদে ঘোষণা দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব দলীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল তা হলো- সব নির্বাচনে অংশ নেয়া, সংসদে যোগদান, মানববন্ধন, প্রতীক গণঅনশন, গণঅবস্থান, বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ। এসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, নতুন মামলা হয়েছে। পাশাপাশি সমঝোতার গুঞ্জনও উঠেছিল জোরে। বিএনপির নেতারা স্বীকার না করলেও ক্ষমতাসীন নেতাদের বক্তব্যে বিষয়টির সত্যতা প্রকাশ পায়।

- - Advertisement - -

হাসপাতালে কেমন আছেন খালেদা জিয়া : খালেদা জিয়াকে সর্বশেষ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৩ নভেম্বর। এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে আছেন তিনি। সেখানেই তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, প্রতিদিনই তার ২-৩ লিটার অক্সিজেন লাগছে। তার শরীরে ইলেকট্রোলাইট, অর্থাৎ সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্লোরিন উপাদানের পরিমাণ কমছে। রক্তের হিমোগেøাবিন কোনোভাবেই বাড়ানো যাচ্ছে না। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যের অন্য প্যারামিটারগুলোর অবস্থাও অবনতির দিকে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন বাড়ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও ডায়বেটিস একেবারে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। গত শনিবার তার দুবার রক্ত বমি হয়েছে। শরীর একেবারেই দুর্বল। মাঝে মাঝে অল্প সুপ ছাড়া কিছুই খেতে পারছেন না।
‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া’ এমন বক্তব্যে ক্ষোভ : গত ১৮ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালের বরাত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, তার (খালেদা জিয়ার) অসুখ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, দেশের বাইরে চিকিৎসা করানো খুব জরুরি। বিএনপির মহাসচিবের এমন বক্তব্যে ভিন্নমত রয়েছে দলের অন্য নেতাদের। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। নেতারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসনকে নিয়ে কী ‘সাংঘাতিক’ ভাষা ব্যবহার করেছেন মহাসচিব। তিনি (খালেদা জিয়া) তো সিসিইউতে আছেন। জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে হলে তো তিনি লাইফ সাপোর্ট বা আইসিইউতে থাকতেন। তাহলে মহাসচিব কিসের ভিত্তিতে এমন কথা বললেন! তাছাড়া খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব এমন দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো ডাক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদেশ নিলেই কী সুস্থ হবে খালেদা? : গত বছরের প্রথম দিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতারা দাবি করছেন- খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা দেশে নেই। সবাই শুধু বলছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে হবে, বিদেশে নিলেই সুস্থ হয়ে যাবেন তিনি। তাদের দাবি- দেশে যে ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, সেটা যথেষ্ট নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে খালেদা জিয়া অসুখগুলো সারিয়ে তুলতে তাদের পুরোপুরি সক্ষমতা নেই। তবে এ ব্যাপারে এভারকেয়ার হাসপাতালের কোনো ডাক্তার প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি।
এমনকি তারা খোলাসাও করেননি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কী পর্যায়ে রয়েছে, কতটা ঝুঁকিতে রয়েছেন, কী ধরনের চিকিৎসা তার প্রয়োজন যা এখানকার হাসপাতালে নেই। তাছাড়া শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে বিদেশ নেয়াটা সম্ভব হবে কিনা সেই বিষয়টিও পরিষ্কার করতে পারেনি বিএনপি। এ নিয়ে মুখ খুলছেন না খালেদার পরিবারের কোনো সদস্যও। ফলে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, খালেদার অসুস্থতা নিয়ে কেন এই রাখঢাক।
আইনের পথ কতটা খোলা : যদিও আইনমন্ত্রী বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের আইনে এর বাইরে আর কিছু নেই। ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে জামিন দেয়া হয়েছে। এ ৪০১ ধারায় কোনো বিষয়ে নিষ্পত্তির পর আবার সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিএনপি বলছে, দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার শর্তহীন অথবা শর্তযুক্তভাবে যে কারও দণ্ডাদেশ স্থগিত বা মওকুফ করতে পারে। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সরকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে দণ্ডাদেশ স্থগিত করেছে, মওকুফ নয়। ওই আইনে বলা আছে- সরকার যদি মনে করে এ শর্ত পরিবর্তন, সংশোধন বা অন্যকোনো শর্ত নতুন করে আরোপ করতে পারে। অর্থাৎ এটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের এখতিয়ারাধীন বিষয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, জামিন ছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায়, অর্থাৎ দণ্ড স্থগিত করে সরকার চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওযার অনুমতি দিতে পারে। এটা শুধু সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার।
কিছুটা নমনীয় সরকার : বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দিলেও বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা চাইলে খালেদা জিয়ার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে পারে- এমন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, যদি তারা (বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার) মনে করে খালেদা জিয়ার জন্য বিদেশ থেকে ডাক্তার আনতে হবে, তারা বিদেশ থেকেও ডাক্তার আনতে পারে। যত বড় ডাক্তার তারা আনতে চায় তারা আনতে পারে। সেখানে সরকার কোনো বাধা দেবে না। কিন্তু এটাও তাদের মনে রাখতে হবে, দেশের আইনে যা আছে তার বাইরে গিয়ে সরকার কিছু করতে পারবে না। গতকাল শনিবার আইনমন্ত্রী তার বাসা থেকে নির্বাচনী এলাকা আখাউড়ার একটি সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।