সর্বশেষ

34.9 C
Rajshahi
বুধবার, জুলাই ১৭, ২০২৪

যেসকল লক্ষণে দেখে বুঝবেন এনাল ফিশার, তারপর কী করবেন?

মলদ্বারের রোগগুলো কম বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে।  যথাসময়ে এর সঠিক চিকিৎসা না নিতে পারলে অনেক সময় বড় বিপর্যয় নেমে আসে।  পাইলস, ফিস্টুলা ও এনাল ফিশার দীর্ঘদিন  ধরে শরীরে লালন করলে ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালের কনসালট্যান্ট কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক অ্যান্ড লেজার সার্জন ডা. আসিফ আলমাস হক। 

 
এনাল ফিশার মানে মলদ্বারে ঘা অথবা কেটে যাওয়া।  এটি দুই ধরনের হয়।  তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে অসম্ভব ব্যথা হয়ে থাকে।  দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারের ব্যথার তারতম্য হয়।  এটি যে কোনো বয়সেই হতে পারে।  তবে এটি তরুণ ও যুবকদের বেশি হয়। নারী , পুরুষ  উভয়েরই এটি সমানভাবে হয়ে থাকে।

কেন এনাল ফিশার  হয়

মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য হলে অথবা মলত্যাগের সময় জোর করে কোঁত দেওয়ার কারণে মলদ্বার ফেটে যায়।  এ ছাড়া শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বার কেটে যায় বলে মনে করা হয়। যারা আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান তাদের এ সমস্যাটি কম হয় বলে মনে করা হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে প্রচুর শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল, আলুর ছোলা, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি। তবে চা-কফি বা মদ খাওয়ার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হলে ফিশার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

উপসর্গ 

মলদ্বারে ফিশারের প্রধান লক্ষণ গুলো হলো-ব্যথা ও রক্তক্ষরণ। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত মলত্যাগের অব্যবহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে বহু ঘণ্টা ধরে এই ব্যথা চলতে পারে।  ‘প্রকটালজিয়া ফুগাক্স’ নামক এক ধরনের রোগে মলদ্বারে ব্যথা হয়, কিন্তু সেই ব্যথা মলত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না।  রক্তজমাটে বাঁধা পাইলসেও ব্যথা হয়, কিন্তু তখন রোগী মলদ্বারে কোন চাকা আছে বলে অভিযোগ করে।  এই রোগে রক্তক্ষরণের পরিমাণ সাধারণত কম হয়। কিন্তু কারও কারও অতিরিক্ত রক্তও যেতে পারে।

করণীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেশি শক্তি প্রয়োগ করে মলত্যাগ করা উচিত হবে না।  বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ডায়রিয়ায় হলে দ্রুত চিকিৎসা করা উচিত।

চিকিৎসা 

একিউট ফিশার শুরুর অল্পদিনের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা হলে বিনা অপারেশনে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  মল নরম করাতে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত এবং এতে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার  সিজ বাথ নিলে উপকার হয়।  এটির নিয়ম হচ্ছে আধা গামলা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানির মধ্যে নিতম্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হয়। 

স্থান অবশকারী মলম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এতেও যদি পুরোপুরি না সারে এবং রোগটি যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে অপারেশন ছাড়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনাটাও কমতে থাকে। এ ছাড়াও সার্জিক্যাল টিকিৎসা হিসাবে মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা (এনাল ডাইলেটেশন)-এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে যার জন্য বেশিরভাগ সার্জন এটির বিপক্ষে। 

এরপর মলদ্বারের স্ফিংটারে অস্ত্রোপচার করেও এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। এ ছাড়াও বর্তমানে লেজারের মাধ্যমে এনাল ফিশার, পাইলস ও ফিস্টুলার অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে।

সম্পাদনায়: নাসরিন ইসলাম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles