সর্বশেষ

23.4 C
Rajshahi
Saturday, December 4, 2021

Saturday, December 4, 2021
🥽VR Game🎮🎯 নতুন বছরে থিম ওমর প্লাজায় যুক্ত হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) গেম .ভিডিও দেখুন.। এ বছরই আমরা শুরু করেছি আমরা শুরু করেছি টপ লাইফ স্টাইল (www.toplifestylebd.com) এর নতুন একটি ই-কর্মাস সাইট যা আপনার কেনাকাটা কে হাতের মুঠোয় এনে দিবে।

রাজশাহীতে বাংলা ভাইয়ের সেই ভয়াবহ নির্যাতনের কথা এখনো ভোলেনি ভুক্তভুগীরা !

রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজায় বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অল্প কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাট ও দোকান বিক্রয় চলছে। এককালীন মূল্য পরিশোধে বিশেষ মূল্য ছাড় !! যোগাগোঃ 01615-33 22 29,01615-33 22 51. Theme Omor Plazaকম্পিউটার,কম্পিউটার এক্সেসরিজ ও মোবাইল মোবাইল এক্সেসরিজ. এবং ইলেকট্রনিক্স পন্য মেলা দোকান স্টল বুকিং ও রেজিস্ট্রেশন চলছে। যোগাযোগ-০১৬১৫-৩৩২২২৯,০১৬১৫-৩৩২২৫১,০১৬১৫-৩৩২২২৬ , ০১৭১৯-২৫০২৪২,০১৭২১-১৮৪৮৩১

টপ নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালে সর্বহারা দমনের নামে রাজশাহীর বাগমারায় আস্তান গড়ে তুলে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ ওরফে জেএমবি। তার দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই। ২০০৪ সালে আস্তানা গাঁড়ার পর ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জেএমবি। তারপর থেকে শুরু করে সর্বহারা ও আওয়ামী লীগের লোকদের ধরে এনে নিপীড়ন নির্যাতন।

-Theme Omor Plaza-

গমারার হামিরকুৎসাতে ছিলো ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের মূল ক্যাম্প। হামিরকুৎসার রমজান কাওয়ার বাড়িতে ছিলো তার আস্তানা। আর হামিরকুৎসা উচ্চ বিদ্যালয় ছিলো টর্চার সেল। এই টর্চার সেলেই নওগাঁর আত্রাই, রাণীনগর ও নাটোরের নলডাঙ্গাসহ বাগমারার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষদের ধরে নিয়ে এসে সেখানে নির্যাতন করা হয়। তাদের নির্যাতনে ২২ জন নিহত ও শতাধিক গুরুতর জখমের শিকার হয়েছেন। যাদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

pic school

রোববার সকালে হামিরকুৎসা বাজারের চায়ের স্টলে কথা হয়, পলাশী গ্রামের নির্যাতিত মো. ফরহাদ হোসেন সাজিল, আয়নাল হোসেন, আফজাল হোসেন, হেকমত আলী প্রাংসহ এলাকাবাসীর সাথে।

তারা অভিযোগ করে জানান, যারা সেসময় বাংলা ভাইয়ের সাথে যুক্ত ছিলো তারা এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এলাকা এখন তাদের দখলেই। বরং আমরাই চলতে ফিরতে আতঙ্কবোধ করি। কোনোকিছু বললে আমরা ক্ষতির শিকার হবো। বেশিরভাগ ঊদ্ধৃতি দিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

ফরহাদ হোসেন সাজিল বলেন, যারা সেসময় বাংলা ভাইয়ের সাথে যুক্ত ছিলো তারাই এখন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ভালো অবস্থানে আছে। আমরা আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের শিকার হলেও আমাদের কোন মূল্য নেই। এখন আপনাকে সত্যি কথা বললে পরে আমাদেরই ক্ষতি হবে। তার চেয়ে কথা না বলাই ভালো। মাছের ব্যবসা করে খাচ্ছি সেটাই ভালো।

bangla bhai 01

একই কথা জানালেন পলাশী গ্রামের নির্যাতিত আয়নাল হোসেন। তিনি জানান, আমি, আমার বাবা ও ছোট চাচা আওয়ামী লীগ করার কারণে বাংলা ভাইয়ের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ এখন আমরাই ভয়ে মুখ খুলতে পারিনা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজন বলেন, এম আলতাফ হোসেন মোল্লা যিনি সেসময় বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করেছেন এখন তিনি বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ।এছাড়া নবগঠিত কমিটির যুগীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী খাঁও বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কমপক্ষে ২৬ জন উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছে।

বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু জানান, বাংলা ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এমন অনেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিতে রয়েছে। এসব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবাই জানেন।কিন্তু বলে তো কোনো লাভ নাই।

জাকিরুল ইসলাম সান্টু আরো বলেন, বাংলা ভাইয়ের যারা সহযোগী ছিলেন তারা দোর্দন্ড প্রতাপে এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতেও ভয় পায়। আমরাই প্রথম বাগমারায় বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধ মিছিল সমাবেশ করেছি। অথচ এখন আমি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে মাইনাস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার হলেও পাননি সরকারি কোনো সহযোগিতা

বাংলা ভাইয়ের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন হামিরকুৎসার আতাউর রহমান আতা। শরীরে হাতুড়ি ও হকিস্টিকের আঘাত সয়ে পঙ্গুত্ব বরণ এখন মৃত্যুশয্যায় বিছানাগত। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তার স্ত্রী দিনমজুরের কাজ করে যা উপার্জন করে সেটা দিয়েই কোনোরকমে জীবন চলে।

৫৪ বছর বয়সী আতাউর রহমান আতা বলেন, আমার স্ত্রী তসলিমা খাতুনের দিনমজুরের উপার্জনের টাকায় কোনোরকমে সংসার চলছে।অনেকে অর্থ দিয়ে কিছু কিছু সহযোগিতাও করেন। প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলাম। এরপর আর কোনো সহযোগিতাও পাননি। এখন আল্লার উপর ভরসা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

নির্যাতিত রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। এরপর আর কোনো আর্থিক সহযোগিদা পাননি। বড় মেয়ের সহযোগিতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২০২০ সালে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেয়েছেন। এছাড়া আর কিছুই পাননি।

স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বাংলা ভাইয়ের সহচররা

বাংলা ভাইয়ের সাথে যুক্তরা এখন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। আওয়ামী লীগের সাথে উঠবস করেন। সেসময় বাংলা ভাইয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন পলাশী গ্রামের মামুন। তিনি ভবানীগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে মুহুরীর কাজ করেন। পলাশী গ্রামের যে ২৫ জন বাংলা ভাইয়ের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মামুন তাদের হতা। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর এখন বাড়িতে থেকে মুহুরীর কাজ করছেন।

হামিরকুৎসা বাজারে হার্ডওয়ারের দোকান রয়েছে মজনু ওরফে বল্টু। বাংলা ভাইয়ের সময়ে তিনি হকিস্টিক বল্টু নামে পরিচিত ছিলেন। তিনিও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর এখন ব্যবসা করছেন।

1435599648 1

হামিরকুৎসা বাজারে মন্টুর জুতার দোকান রয়েছে। তিনিও বাংলা ভাইয়ের সময়ে নির্যাতকের ভূমি