সর্বশেষ

29.4 C
Rajshahi
শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

রাত পোহালেই ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হওয়ার দিন

টপ নিউজ ডেস্কঃ আর মাত্র কিছু সময়ই। দিন পেরিয়ে রাত পোহালেই মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ত্যাগের উৎসব। দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে দুই রাকাত নামাজ আদায় করার পর স্ব-স্ব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও উট আল্লাহর নামে কুরবানি করে থাকেন। আর কুরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মাঝে বণ্টন করেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. এ্যাডঃ আবদুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এবার ঈদ উদযাপনের আবহ আগেই শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের মানুষের আনন্দ অন্যবারের তূলনায় একটু একটু বেশিই। কারণ পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার রাজধানী ও এর আশপাশে কর্মরতদের বাড়ি যেতে আগের মতো ভোগান্তি নেই।

তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে এবারের যেন ঈদ অনেকটা নিরানন্দের মধ্য দিয়েই উদযাপিত হবে। কারণ ভয়াবহ বন্যায় এসব এলাকার মানুষদের চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের ঘর, গোলার ধান এই বানের পানিতে ভেসে গেছে। এরই মধ্যে মরণঘাতী করোনাভাইরাস আবার চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। তাই ঈদ কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা ও ঈদ জামাত আদায়ে ৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবুও এরই মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ সাধ্য অনুযায়ী কুরবানির পশু কিনেছেন। কেউ কেউ আজ কিনবেন। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে যাওয়ার যাত্রা সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে।

ঈদের ‍দিন সকালে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। নামাজের পর খুতবায় ইমাম সাহেব কুরবানির মর্মবাণী তুলে ধরবেন। পশু কুরবানির মাধ্যমে মনের পশুকে দমন করার আহ্বান থাকে এই খুতবায়। দোয়ার মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের প্রথম পর্ব শেষ হবে। এরপর পশু কুরবানির মাধ্যমে শুরু হবে ঈদের দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিক উদযাপন। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় বিকাল পর্যন্ত নিজস্ব আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে কুরবানির পশুর মাংস বণ্টনের আনন্দে মেতে উঠবেন অনেকে। ঈদুল ফিতরের পর পরই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব হচ্ছে ঈদুল আজহা।

আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে আল্লাহর নাবী হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করতে চেয়েছিলেন। ইব্রাহিম (আ.)-এর নিয়ত ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগে খুশি হয়ে তার পুত্রের বদলে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার ইশারায় দুম্বা./উট কুরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসামান্য এই ত্যাগের মহিমা জাগ্রত রাখতে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র জিলহজ মাসের ১০ তারিখে নিজের প্রিয় পশু কুরবানি করেন। ঈদুল আজহার পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কুরবানি দেওয়ার সুযোগ থাকে মুসলমানদের জন্য।

সম্পাদনায়ঃ শাহাদাত হোসাইন

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles