সুইডেনের আইএফএসের প্রধান অনুসন্ধানকারীর দায়িত্ব পেলেন রাজশাহীর কৃতি সন্তান ড. বাকি

0
57
আইএফএসের প্রধান অনুসন্ধানকারীর দায়িত্ব পেলেন রাজশাহীর কৃতি সন্তান ড. বাকি
ড. এম আব্দুল্লাহ আল বাকি, সহকারী অধ্যাপক হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

শিরাজী ফেরদৌস ইমন: বিজ্ঞানের জন্য আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশন আইএফএসের (The International Foundation For Science) গবেষণা কাজের জন্য প্রধান অনুসন্ধানকারীর দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহীর কৃতি সন্তান দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড.এম আব্দুল্লাহ আল বাকি। তার গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে, ’ফসফরাস’।

ফসফরাস একটি অ-নবায়নযোগ্য এবং অপরিহার্য উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক ফসফরাসের যে রিজার্ভ আছে তা ৫০-১০০ বছরের মধ্যে নিঃশ্বেস হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ফসফরাস সারের যে চাহিদা রয়েছে তার বেশিরভাগ আমদানি নির্ভর এবং বিশ্বব্যাপী ফসফরাসের রিজার্ভ ঘাটতির কারনে বিদেশী রাষ্ট্রগুলো রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। অপরপক্ষে, অনিয়ন্ত্রিত ফসফরাস সারের ব্যবহারই মাটির দূষণের অন্যতম প্রধান কারন। তাই যথাযথ ফসফরাস সারের অতীব প্রয়োজন। আব্দুল্লাহ আল বাকি’র গবেষণাতে কম উর্বর মাটিতে জৈব-প্রলিপ্ত বায়োচার অন্তর্ভুক্ত করার পরে ভুট্টা গাছের দ্বারা ফসফরাসের প্রাপ্যতা, ধারণ এবং গ্রহণের মূল্যায়ন করা। তার এই গবেষণার জন্য অনুদান দিচ্ছে আইএফএস(IFS)।

আইএফএ সুইডেনের একটি বেসরকারি সংস্থা, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে এ ধরণের গবেষণার জন্য তহবিল দেওয়া শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার সর্বমোট ৮৪ জন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আইএফএস থেকে অনুদান পেয়েছেন। আইএফএস(IFS) এর পক্ষ থেকে ড. বাকির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই গবেষণার ব্যয়ের জন্য ১১ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ড. এম আব্দুল্লাহর প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর।

এই গবেষণাটি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে এবং মাঠ গবেষণার কাজ পরিচালিত হবে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলাগুলোতে। উল্লেখ্য ড.এম আব্দুল্লাহ আল বাকী তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা কাজের জন্য বিদেশী অনুদানপ্রাপ্ত প্রথম শিক্ষক। টপ নিউজের সাথে আলাপকালে ড. এম আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, চীনে পিএইডি করার সময় তিনি ‘অম্ল মাটিতে ফসলের সহিষ্ণুতা’ নিয়েই থিসিস করেন তিনি এবং তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গবেষণা কার্যক্রমটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগসহ সকলের একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি ভবিষ্যতে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকদের কৃষি ব্যয় কমানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অধিকতর গবেষণা করতে চান।

উল্লেখ্য, ড.এম.এ বাকি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর গ্রামের সন্তান। তিনি চায়নিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-দি ওয়ার্ল্ড একাডেমি অফ সায়েন্সেস (CAS-TWAS) এবং নানচিং মিউনিসিপাল গভর্নমেন্ট-এর বৃত্তি নিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ চায়নিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর ইন্সটিটিউট অফ সয়েল সায়েন্স, নানচিং, চীন থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে ২০১৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ‘অম্ল মাটিতে ফসলের সহিষ্ণুতা’ নির্ণয় তিনি দেশ ও জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আরো বেশি বেশি করে গবেষণা কাজ করতে চান-এজন্য জনাব বাকি দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য