আজ আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস

0
31
আজ আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস
আজ আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস

টপ নিউজ ডেস্কঃ আজ ২৬ জুলাই (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস। ম্যানগ্রোভ বা বাদাবনের জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং বাদাবন সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়।

১৯৯৮ সালের ২৬ জুলাই ইকুয়েডরের ম্যানগ্রোভ কেটে চিংড়ি চাষ করার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তাঁর স্মরণে এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটিকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পৃথিবীতে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বিস্তৃত ছিল ১,৮১,০০০ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে। কিন্তু অতি সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, এই বনাঞ্চলের আয়তন ১,৫০,০০০ বর্গ কি.মি. এর নিচে নেমে এসেছে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হতে অতিরিক্ত কাঠ ও মাছ আহরণের ফলে এবং উপকূলীয় ভূমিকে বিকল্প ব্যবহার যোগ্য ভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে এ বনাঞ্চল হুমকির সম্মুখীন। সমগ্র পৃথিবীর উপকূলীয় আবাসস্থল অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে জর্জরিত।

সারা পৃথিবীব্যাপী গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও উপউষ্ণ (Tropical and Sub-tropical) উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বনাঞ্চল দেখা যায়। মূলত, পৃথিবীতে ১০২টি দেশে ম্যানগ্রোভের অস্তিত্ব থাকলেও কেবলমাত্র ১০টি দেশে ৫০০০ বর্গ কি.মি. এর বেশি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে। পৃথিবীর সমগ্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ৪৩% ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজার এ অবস্থিত এবং এদের প্রত্যেকটি দেশে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ২৫% হতে ৬০% ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে।

বাংলাদেশে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত। সুন্দরবন বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের থেকে বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ। বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই বন বিস্তৃত। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনে রয়েছে ৩৪ প্রজাতির গাছ। এর মধ্যে কেওড়া গাছ এর শিকড়, কাণ্ড, ডালপালা ও পাতায় সর্বাধিক কার্বন ডাই-অক্সাইড আটকে রাখতে পারে। এক হেক্টর কেওড়া বন বছরে ১৭০ টন পর্যন্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড আটকে রাখতে পারে। বাইনের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১১৫ টন, গেওয়ার ক্ষেত্রে ২৩ টন। গাছের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ওই ক্ষমতা কমতে থাকে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটামুটি ৬৬২ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড আটকে আছে!  এর সঙ্গে প্রতিবছর আরো যোগ হচ্ছে ৩৮ লাখ টন। আটকে থাকা এই বিষ-গ্যাসের একাংশ শর্করায় পরিণত হওয়ায় প্রতিবছর এরা আরো গ্যাস আটকে রাখতে সক্ষম হয়।

এছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিবার্তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এ সুন্দরবন। এত সব উপকারিতা থাকার পরও সুন্দরবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ  কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।  দূষণ, দুর্ঘটনা আর বাণিজ্যিক কারণে দেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে নোনার মাত্রা বেড়েছে। নদীতে পলিও জমছে অধিক হারে। নদীগুলোর গভীরতা কমছে। সুন্দরবন এলাকার শিবসা ও পশুর নদে ডুবোচর বাড়ছে।  সুন্দরবন এলাকার শিবসা ও পশুর নদে ডুবোচর বাড়ছে। সেই সঙ্গে আরো বাড়ছে শব্দদূষণ, তেলদূষণ, আগুন লাগানো, সুন্দরবনের পাশের এলাকায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

সম্পাদনায়ঃ হাবিবা সুলতানা

আপনার মন্তব্য