সর্বশেষ

43.2 C
Rajshahi
শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪

ডা. বাসুদেবের আর দেখা হলো না মায়ের সাথে

একটি দূর্ঘটনায় তিন দম্পতিসহ নিহত ৮

টপ নিউজ ডেস্কঃ অসুস্থ মাকে দেখতে স্ত্রী ও পূত্রসহ প্রাইভেটকারে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাসুদেব সাহা ছিলেন বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে, কাজ শেষে নবদম্পতি অনীক বাবু ও ইয়াসমিন আক্তার মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আর সড়কের পাশে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন ফিরোজ মোল্লা ও তার স্ত্রী রুমা। একটি দূর্ঘটনায় এরা সবাই এখন অতীত।

আজ (১৪ মে) প্রায় বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত হয়েছে মোট ৮ জন এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্য থেকে ২০ জনকে নিকটস্থ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনইট কাশিয়ানী উপজেলায় অবস্থিত ফুকরা ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুকরা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।

নিহতরা হলেন প্রাইভেটকারে থাকা ডা. বাসুদেব সাহা, তার স্ত্রী শিবানী সাহা, তার উনিশবর্ষী ছেলে, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপ্নিল সাহা, প্রাইভেটকারের চালক আজিজুর রহমান, দক্ষিণ ফুকরা গ্রামের পেয়ার আলীর ছেলে ফিরোজ মোল্লা ও তার স্ত্রী রুমা এবং একই গ্রামের জিন্দ ফকিরের ছেলে অনীক বাবুও স্ত্রী ইয়াসমিন।

দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা আগে বাড়ি যাওয়ার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফেরিতে দাঁড়ানো একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেই ছবিই এখন আর শেষ স্মৃতি হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন ডা. বাসুদেব সাহা। বর্তমানে তিনি বারডেম হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম এই দূর্ঘটনা সম্পর্কে জানান, রাজিব পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস পিরোজপুরে মঠবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসছিল। বাসটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং কাশিয়ানী থেকে ছেড়ে আসা একটি মোটরসাইকেলের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এই সময় ব্যক্তিগত গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ধানমাড়াইরত মেশিনের ওপর গিয়ে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিনজন এবং ধানমাড়াইরত স্বামী-স্ত্রীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরো আহত হন অন্তত ৩০ জন। খবর পেয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় লোকজন হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।

সম্পাদনায়ঃ হাবিবা সুলতানা

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles