সর্বশেষ

37.3 C
Rajshahi
বুধবার, মে ২২, ২০২৪

রাবিতে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার চায় ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য’

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের নির্যাতন ও টাকা ছিনতাই সহ আবাসিক শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক হয়রানি এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে এক মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার (২২ আগষ্ট) সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনের উত্তর দিকে সামনে ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র- শিক্ষক ঐক্য’ ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যথোপযুক্ত সম্মান এবং মর্যাদার সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আইন-কানুন, বিধি নিষেধ আছে, সেগুলো সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান ভাবে প্রয়োজ্য হতে হবে। কিন্তু আমরা এর রেশ মাত্র আমাদের এখানে দেখতে পাচ্ছি না।

ছাত্রলীগের এক দল গুণ্ডাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লালন করা হচ্ছে। লালন করার কথাটা বলবো এই জন্য যে যদি লালন নাই করা হতো তাহলে বছরের পর বছর ধরে তারা একই ধরনের নৈরাজ্য কিভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কেনো প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে এই ধরনের জঘন্য ঘটনা আমাদের সংবাদ পত্রে দেখতে হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে সংবাদপেত্রে যেগুলো দেখতে পাচ্ছি এগুলোই কি সব?’ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামসুল ইসলামকে তিন ঘন্টা ধরে নির্যাতন করা হয়েছে।

একজন সাধারন শিক্ষার্থীকে যদি এত দীর্ঘ সময় নির্যাতন করা হয় তাহলে সে ছেলে কথা বলার মত অবস্থায় থাকে না। এমনকি ছাত্রলীগ নেতা তাকে আবরারের ঘটানার উদাহরণ টেনে হত্যা করার হুমকিও দিয়েছিল। এই আগস্ট মাসে দাঁড়িয়ে গত ১০ দিন ধরে ছাত্রলীগের নিপীড়নের কথা শুনছি আর ভাবছি শিক্ষক হিসাবে কি করছি আমরা! দিনের পর দিন এই ক্যাম্পাসে এগুলো ঘটছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ততক্ষণ নিরাপদ থাকে যতক্ষণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ তারা যেনো খুব দ্রুত এই পরিস্থিতি গুলোর প্রত্যেকটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন।’ মানববন্ধনে বীর মুক্তিযুদ্ধা নূর বলেন, ‘এই শোকের মাসে আজকে আমরা বিক্ষোভ প্রকাশ করছি। এটা শোক সন্তপ্ত জাতির কাছে বেমানান। সে ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতো। তার রোজগারে এসেছে সিংহের থাবা। অন্যায় যে করে তার চেয়ে বেশি অন্যায় হচ্ছে যে অন্যায় সহে।’ নাগরিক ছাত্র ঐক্য’র সভাপতি মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, ‘রাবি ছাত্রলীগ এখন রুটিন মাফিক চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাইয়ের সাথে যুক্ত। দেশে বর্তমানে ফ্যাসিবাদী কাঠামো চালু আছে।

এই ফ্যাসিবাদী কাঠামো যতক্ষণ না পর্যন্ত ভেঙে চুরমার করা হবে ততোদিন ছাত্রলীগ আপনাকে নির্যাতন করবে। ছাত্রলীগ দ্বারা ছাত্রলীগও এখন অনিরাপত্তায় ভুগছে। গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর জন্য যে ক্যাম্পাসে অকল্যাণ হচ্ছে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিতে হবে। আঙুলের সমস্যা হলে আঙুল না কেটে মাথা কাটা যাবে না। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে এই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে করতে হবে।’ মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার রানা, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles