সর্বশেষ

35 C
Rajshahi
শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৪

কীভাবে যক্ষ্মা ছড়ায়? এর প্রতিরোধে করণীয় কী..?

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হিসেবে এবারে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২২ এর স্লোগান ‘বিনিয়োগ করি যক্ষ্মা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে’।

১৮৮২ সালের ২৪শে মার্চ ডা. রবার্ট কক মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস যক্ষ্মা রোগের এই জীবাণুটি আবিষ্কার করেন। আবিষ্কারের ১০০ বছর পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দিনটিকে স্মরণীয় করা ও যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

ঢাকায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার ২৪ মার্চ ২০২২ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস  উপলক্ষে জানান, সচেতন না হলে তরুণদের মাঝেও হতে পারে যক্ষ্মা। তবে পরিবারে কারো যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসার আওতায় আসতে হবে ও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, যক্ষ্মা সচেতনতায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণা অব্যাহত আছে,  এবং সরকার থেকে অনেক প্রচারণাও চালানো হয়। এতে করে মানুষের মধ্যে যক্ষ্মা নিয়ে ভীতি যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হচ্ছে সচেতনতাবোধ। যক্ষ্মা রোগ হলে গ্রামের প্রান্তিক মানুষরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, গ্রাম অঞ্চলে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে কি না  সে সম্পর্কে ডা. আয়শা আক্তার বলেন, প্রান্তিক মানুষদের জন্য যক্ষ্মার চিকিৎসায় বক্ষবিধি ক্লিনিক আছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও আছে।

সেখান থেকে সাধারণ মানুষও যক্ষ্মার চিকিৎসা নিতে পারেন। বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয় ও ওষুধও দেওয়া হয়।

যক্ষ্মা প্রতিরোধে  করণীয় কী ?

যক্ষ্মা শব্দটি এসেছে ‘রাজক্ষয়’ শব্দ থেকে। ক্ষয় বলার কারণ এ রোগে রোগীরা খুব শীর্ণ (রোগা) হয়ে পড়েন। যক্ষ্মা প্রায় যে কোনো অঙ্গে হতে পারে (কেবল হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশি ও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়া)। তব সবচেয়ে বেশি যক্ষ্মা দেখা যায় ফুসফুসে।

তবে যক্ষ্মা প্রতিরোধে জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করার নির্দেশ দেন তিনি। তারপর যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা। রোগীর কফ বা থুথু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা, যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসা করাতে  হবে। মূলত যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি। যেটা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। আর এই জীবাণুটি যে কোনো অঙ্গেই সংক্রমিত হতে পারে। ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে এই রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় এক কোটি মানুষ ও মারা যায় ১৫ লাখ মানুষ৷

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ উপসর্গ্ :

 ফুসফুসে যক্ষ্মা রোগ হলে হালকা জ্বর ও কাশি হতে পারে। কাশির সঙ্গে রক্তও পড়তে পারে। মুখ না ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলেও যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েতে পাড়ে। আবার বদ্ধ পরিবেশে মাইকোব্যাকটেরিয়াম অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে।

> বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হিসেবে ৫-৬ মাস জ্বর থাকার মূল কারণই এই যক্ষ্মা। সাধারণত তিন সপ্তাহেরও বেশি কাশি, জ্বর, কাশির সঙ্গে কফ ও মাঝে মধ্যে রক্ত বের হওয়া, এরপর ওজন কমে যাওয়া, বুকে ব্যথা ওঠা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি দেখা দেয়।

> এছাড়াও যক্ষ্মা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পরতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল তাদের ও শিশুদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে। তখন একে অ-শ্বাসতন্ত্রীয় যক্ষ্মা’ বলা হয়ে থাকে।

যেমন হলো প্লুরাতে প্লুরিসি, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মেনিনজাইটিস, লসিকাতন্ত্রে স্ক্রফুলা, প্রজননতন্ত্রে প্রজনন তন্ত্রীয় যক্ষ্মা, পরিপাকতন্ত্রে পরিপাক তন্ত্রীয় যক্ষ্মা এবং অস্থিকলায় পটস ডিজিস।

কিন্তু জীবাণু শরীরে ঢুকলেই সবার যক্ষ্মা হয় না। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রেই যক্ষ্মা বেশি হয়। বাতাসের মাধ্যমেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বেশি ছড়ায়। যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেই এ রোগের জীবাণু বাতাসে গিয়ে মিশে রোগের সংক্রমণ ঘটায়।

বিশেষ ধরনের ছড়িয়ে যাওয়া এই যক্ষ্মাকে বলা হয় মিলিয়ারী যক্ষ্মা। অনেক ক্ষেত্রে  এই ফুসফুসীয় ও অ-ফুসফুসীয় যক্ষ্মা একসঙ্গে বিদ্যমান থাকতে পারে। পৃথিবীর মধ্যে যক্ষ্মা রোগীদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি (প্রায় অর্ধেক) ভারতীয় উপমহাদেশবাসী।

সম্পাদনায়: নাসরিন ইসলাম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles