সর্বশেষ

16.5 C
Rajshahi
সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩

কেন হয়েছিলো অক্টোবরে মেরি ক্রিসমাস?

- Advertisement -

টপ নিউজ ডেস্কঃ আনন্দ আয়োজন ও উৎসব আমাদের জীবন ও মনকে উৎফুল্ল করে। বাঙালি হিসেবে আমাদের দিনপঞ্জি উৎসবপূর্ণ। ঐতিহাসিক দিবস কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বাঙালি সভ্যতায় কমতি নেই কোনোটিরই, হোক তা আনন্দ ও গৌরবের ভাষা, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, কিংবা ষড়ঋতুপূর্ণ প্রকৃতির নবান্ন বা বসন্ত উৎসব, বাঙালির পহেলা বৈশাখ, মুসলিমদের ঈদ, সনাতনীদের দূর্গাপূজো, বুদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা কিংবা খ্রিস্টানদের বড়ুদিন- কি উদযাপিত হয়না আমাদের এই মাতৃভুমিতে! পাঠক ভাবছেন এসব তো আপনারা জানেন তবে আমি  কেন লিখছি? আচ্ছা বলুন তো এই যে এতশত উৎসব, এখন হঠাৎ করে যদি আমার ইচ্ছা করে আজ এই মুহূর্তে ঈদ উদযাপন করতে, আমি কি পারবো? কিংবা পহেলা বৈশাখ অথবা বসন্ত? উত্তরটা হবে না এটা আমরা সবাই জানি। কারণ প্রতিটি উৎসব, দিবস ও আনন্দ আয়োজনের নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট গুরুত্ববহন করে। কিন্তু পাঠক যদি বলি এ নিয়ম ভঙ্গ করে কানাডার এক শহরে অক্টাবরে উদযাপন করা হয় মেরি ক্রিসমাস বা বড়দিন?

- - Advertisement - -

কানাডার হ্যামিল্টন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ছোট্ট শহর সেন্ট জর্জ শহরে বসবাসরত সাত বছর বয়সী ‘ইভান ল্যাবারসেজ’-এর প্রিয় উৎসব ছিলো মেরি ক্রিসমাস বা বড়দিন।

- Advertisement -

কিন্তু দুই বছর বয়স থেকে মস্তিষ্কের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করা ক্ষুদে এই যোদ্ধা খুব আয়োজনের সাথে কখনোই উদযাপন করতে পারেনি তার প্রিয় উৎসব ‘বড়দিন’। সবসময়েই তাকে চিকিৎসা ও হাসপাতালে আসা যাওয়ার মধ্যেই থাকতে হত। খুব ইচ্ছে ছিল একদিন জাকজমকপূর্ণ ভাবে বড়দিন পালন করবে।

২০১৫ সালের অক্টোবরে ছেলেটির পরিবার জানতে পারে তার টিউমার বেড়ে উঠেছে এবং ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক অংশজুড়ে। আর বেশি সময় নেই ছেলেটির হাতে। সর্বোচ্চ মাসখানেক। ইভানের মা, নিকোল ওয়েলউড জিজ্ঞেস করেন কোনোভাবে ক্রিসমাস পযন্ত কি ইভানকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না? চিকিৎসক জানান, সম্ভব হলে ক্রিসমাস এগিয়ে আনুন। এ ছিলো এক অসম্ভব বার্তা। কি করে অক্টোবরে বড়দিন উদযাপন সম্ভব! কিন্তু ইভানের মা ও পরিবার এই অসম্ভবকে সম্ভব করতেই সিদ্ধান্ত নিলেন। আশেপাশের লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এমনকি যোগাযোগ করলেন শহরের মেয়রের সাথে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা হল অনলাইন পোল ও ইভেন্ট। এবং অবাক করে দিয়ে এতে এগিয়ে আসলো সবাই।

ইভান বড়দিনের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্রিসমাসের কাছে যেতে না পারলেও ক্রিসমাস লাইটিং, ক্রিসমাস ট্রি, কৃত্রিম তুষার, ক্রিসমাস প্যারেড আর স্যান্টা ক্লজের সাজ_সবকিছু মিলিয়ে সেন্ট জর্জ শহরের হাজার হাজার মানুষ অক্টোবর মাসেই ইভানের কাছে ক্রিসমাস নিয়ে আসলো। এ ছিলো এক অন্যরকম আনন্দ উৎসব। প্রায় ৩০০০ লোকের ছোট্ট শহরে, বাড়ির পর বাড়ি বড়দিনের আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে, এবং ক্যারোলাররা গিয়েছিলো ঘরে ঘরে৷ ইভানের বাড়ির রাস্তায় সান্তা ক্লজ প্যারেডে সানিসাইড ড্রাইভ-এ ২২৫টিরও বেশি হলিডে ফ্লোট পথ তৈরি করেছিলো। এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে পুলিশ জানান সেদিন ইভানকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিল ৭০০০ লোক। সেই প্যারেডে এসেছিলেন সান্তাক্লজ এবং উপহার হিসেবে এনেছিলেন ইভানের প্রিয় অ্যনিমেশন ক্যারেক্টার ওয়াকি টিভির স্পঞ্জববকে। এক ইন্টারভিউতে সে সময়টা সবচেয়ে বেস্ট মুহূর্ত বলেছিলো ইভান ল্যাবারসেজ।

ইভান বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিলো তাই ব্রান্টফোর্ড পুলিশ ইভানকে সেদিন একজন সম্মানীত অফিসার বানিয়েছিলো। এছাড়াও দমকলকর্মীরা ইভানকে একটি ফায়ারম্যানের টুপি এবং প্যারেডের পর পরার জন্য ইউনিফর্ম দিয়েছিলো। সেদিনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইভানের মা বলেছেন, অনেকবার আমি মানুষকে বলেছি ইভান আমার অনুপ্রেরণা, সেদিন রাতে পুরো বিশ্ব আমার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। শুধু ভিড় দেখে, আমি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাই।”

তিনি জানান, “এটি দেখায় যে এটি একটি সম্প্রদায়ের বাইরে চলে গিয়েছিলো এবং ইভান খুব ভাগ্যবান ছিলো যে তার পিছনে এত লোক লড়াই করছে। পপ তারকা জাস্টিন বিবারের পরিবার, ইভানকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন যাতে তাকে শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাকে একটি ব্যাটম্যান বেসবল টুপি দেওয়া হয়।” ওয়েলউড বলেন, এই পরিস্থিতি যতটা দুঃখজনক সময় আমরা মোকাবেলা করছিলাম, এই সমর্থন-সহযোগিতা আমাদের পরিবারের সকলের জন্য প্রশান্তি এনেদিয়েছিলো,”

এই উদযাপনের কিছুদিন পরে ইভানকে চলে যেতে হয় না ফেরার দেশে। সত্যিকারের বড়দিন পযন্ত ইভান অপেক্ষা করতে না পারলেও সেন্ট জর্জ শহরের বাসিন্দারা বড়দিনকে নিয়ে এসেছিলো তার কাছে। বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে এ এক অনন্য মানবিক আবদার। দর্শক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইভানের ঘটনাটি চোখে পরে কলকাতার অন্যতম সেরা পরিচালক সৃজিত মুখার্জির। ঘটনাটি তাকে চরমভাবে প্রভাবিত করে এবং সে মানবতার এমন মহৎ দৃষ্টান্তটি পর্দায় উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছুদিন পরেই ইভানের মা নিকোল ওয়েলউডের সাথে যোগাযোগ করে ও চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি নেয়। পরবর্তীতে সিনেমার স্পেশাল স্ক্রীনিং-এ আমন্ত্রণ জানালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিকোল।

চলচ্চিত্রটি কলকাতার প্রেক্ষাপটে ‘দূর্গা পূজা’ নিয়ে তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালের ১ জুন মুক্তি পায় ‘উমা’ নামের এই চলচ্চিত্রটি।

সম্পাদনায়ঃ হাবিবা সুলতানা

- Advertisement -

Related Articles

আপনার মন্তব্য

Latest Articles