সর্বশেষ

36.7 C
Rajshahi
শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪

ছেলের জীবন বাচাতে কিডনি দিলেন মা, চিকিৎসায় দরকার ১০ লক্ষ্যাধিক টাকা

রিজাউল করিম সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ রুবেল মোল্লা (২৫) সাতক্ষীরার তালা উপজেলা শিবপুর গ্রামের দিনমজুর মুজিবর মোল্লার একমাত্র ছেলে। মাঝিয়াড়া বাজারে মাংসের ছোট্ট দোকান আছে। তার দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এক দিন হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রুবেল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান তার দুটি কিডনিই নষ্ট। দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, না হলে মৃত্যু নিশ্চিত। এ কথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। ৭ মাস আগে এমন খবরে রুবেলকে দ্রুত নেওয়া হয় রাজধানীর শ্যামলী সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) টানা ১০ ঘণ্টা অপারেশনের পর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তার। কিডনি দান করেছেন মা আনোয়ারা বেগম। তবে কিডনি প্রতিস্থাপন হলেও এখন চিকিৎসা ব্যয় মিলছে না। এখনো ৩-৬ মাস সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকতে হবে তাকে।

খুলনার চিকিৎসকদের পরামর্শে রুবেল মোল্লাকে ২০২১ সালের ২০ জুলাই ভর্তি করা হয় রাজধানীর শ্যামলী সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে। সেখানে টানা সাত মাস চিকিৎসাধীন রেখে কিডনি প্রতিস্থাপনে উপযোগী করা হয়।

রুবেলের চিকিৎসায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ৫০ হাজার টাকা, তালার বেসরকারি সংস্থা মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম ও পরিচালক নিগার সুলতানা রোকছানা ১০ লাখ টাকা এবং কিছু হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গ আড়াই লাখ টাকা দিয়েছেন।

রুবেল মোল্লার বাবা মজিবার মোল্লা জানান, ছেলেকে নিয়ে টানা সাত মাস ঢাকায় আছি। আমার এমনিতে কিছুই নেই। যা ছিল সবটুকুও শেষ করে ফেলেছি অনেক আগেই। হৃদয়বান মানুষদের দেওয়া টাকায় চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি টাকা খরচ হয়েছে। কিডনি দিয়েছে আমার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। চিকিৎসক বলেছেন, এখনো ৩-৬ মাস থাকতে হবে এখানে। সব মিলিয়ে এখনো ৮-১০ লাখ টাকা লাগবে।

রুবেলের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার একমাত্র ছেলে। হঠাৎই জানা গেল দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একটি কিডনি আমি দান করব। তবে কিডনি দান করতে গেলেও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনেক টাকার প্রয়োজন। ছেলের সঙ্গে আমারও চিকিৎসা চলেছে টানা সাত মাস। আমি একটি কিডনি দিয়েছি। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে এখনো টাকা প্রয়োজন। আপনারা সহযোগিতা করুন।

তালা সদরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ছেলেটার দুটি কিডনি নষ্ট। অনেক ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা। সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে টানা সাত মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার টানা ৯-১০ ঘণ্টা অপারেশনের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন হাসপাতালের পরিচালক কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. কামরুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক জানিয়েছেন এখনো টানা ৩-৬ মাস চিকিৎসাধীন থাকতে হবে সেখানে। বর্তমানে রুবেল আইসিইউতে রয়েছে। মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা সহায়তা করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে এখনো অনেক টাকার প্রয়োজন। হৃদয়বান মানুষরা পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে পারেন।

রুবেলের পাশে কেউ দাঁড়াতে চাইলে এই নম্বরে ০১৯৮৮৯৬৯৭৭৭ যোগাযোগ করা যাবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles