সর্বশেষ

35.6 C
Rajshahi
বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ দ্বিতীয় জেলা পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই নির্বাচনে রাজশাহীতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই জেলা পরিষদ  নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে কারা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মধ্যে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অন্তত সাতজন নেতা ভোটের মাঠে থাকার কথা বলেছেন; তারা এবার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানিয়েছেন । ইতিমধ্যে কেউ কেউ ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ নেতা হচ্ছেন- রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ আলী সরকার, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়হানুল হক রায়হান, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিউল আলম বাবু এবং সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আখতার, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফ। এর বাইরে কাঁকনহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ মাষ্টারও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে চিন্তাভাবনা করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরুর দিনই নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ আলী সরকার, এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শরীফুল ইসলাম শরীফ।

অপরদিকে এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী বা বামদলগুলোর তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়েনি। বিএনপি নেতারা  সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি।

২৩ আগষ্ট নির্বাচন কমিশন তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে ৬১ জেলা পরিষদে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। এতে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত ৬৩ হাজারের বেশি জনপ্রতিনিধি ভোট দেবেন।

তফসিল অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এবারের নির্বাচন হবে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে। এতে প্রথমবারের সঙ্গে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য হবে।

আগে প্রতি জেলায় ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং পাঁচ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকার বিধান ছিল। তা সংশোধন করে প্রত্যেক উপজেলায় (জেলার মোট উপজেলার সমানসংখ্যক) একজন করে সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলার সংখ্যা যাই হোক, সংরক্ষিত নারী সদস্য দুইজনের কম হতে পারবে না। ভোটাররা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট দেবেন।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এবার রাজশাহী জেলা পরিষদে ১৩ জন নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন। তিনি বলেন, “এখানে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৮৬ জন। তাদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান, নয় জন সাধারণ সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন।”

রাজশাহীর প্রার্থীদের মধ্যে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা  রায়হানুল হক রায়হান  টপ নিউজকে বলেন, গত ২০০১ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে  প্রার্থী ছিলাম কিন্তু নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করে। তিনি বলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্বে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে আহত হয়েছি, দেশকে স্বাধীন করেছি। জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। মানুষের সেবা করার জন্যই নির্বাচনে প্রার্থী হবার ইচ্ছা। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দল যা সিদ্ধান্ত দেবে, তা-ই হবে।”

উল্লেখ্য যে ,নগরীর চারঘাটের বাসিন্দা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়হানুল হক রায়হান ১৯৯৬ সালের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও  নিজ দলীয় বিদ্রোহী  প্রার্থী থাকার কারণে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান।

অন্যদিকে শরীফুল ইসলাম শরীফ বলেন, দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছি। এখন ভোটারদের দোয়া আর জননেত্রীর আর্শীবাদ।  তবে আমি আশাবাদী।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে গতবারও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন রবিউল আলম বাবু। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারির ছাত্রনেতা রবিউল আলম বাবু জেলা কৃষক লীগের টানা তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

এ ছাড়া তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্টির সাবেক পরিচালক।

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন আক্তারুজ্জামান আখতার।

তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ভোটার স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা। আমি তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান থাকায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সে কারণেই জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন চাচ্ছি।”

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা।

একই কথা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles