সর্বশেষ

28.8 C
Rajshahi
সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪

রাজশাহীতে ১ টাকায় মিলবে চিকিৎসাসেবা

টপ নিউজ ডেস্কঃ যখন এক টাকার চকলেট এর জন্য শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের কাছে বায়না করতো, এরকম একটা সময় ছিলো, ।

কিন্তু বর্তমানে উর্ধ্বগতির এই বাজারে এক টাকার যেন মূল্য নেই কোনো।

বর্তমানে নিত্যপণ্যের দামের উর্ধ্বগতির এই বাজারে একশত টাকা কিংবা এক হাজার টাকা দিয়েও যখন কিছুই জোটে না সেই সময়ে চিকিৎসা সেবা মিলছে এক টাকায়। রোগী দেখছেন এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক।

বিষয়টি কল্পনীয় ও আশ্চর্যজনক হলেও এটি বর্তমানে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল তা বাস্তবে পরিণত করেছেন।

বাবার ইচ্ছা পূরণে রাজশাহীর মেয়ে সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। নগরীর সাহেব বাজারে একটি ওষুধের দোকানে প্রাথমিকভাবে শুরু করেছেন তিনি এই কার্যক্রম । সেখানেই তিনি প্রতি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার রোগী দেখছেন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ।

২০১৫ সালে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে সুমাইয়া উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। বড় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে মেডিকেল ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকেন । ভাগ্যের নির্মমতায় সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেলেও স্বপ্নের জাল বুনতে থাকেন।

এমবিবিএস কোর্সে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন । সম্প্রতি এমবিবিএস পাস করে তিনি ইন্টার্ন শেষ করেছেন । প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে চাকরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এর পাশাপাশি করছেন জনসেবা।

নিজের পরিবার সম্পর্কে ডা. সুমাইয়া বলেন, প্রায় আট বছর হয়ে আসছে আমার বিয়ের বয়স। পাঁচ বছর ও আছে দুই বছর বয়সী দুটো বাচ্চাও। আমার হাজবেন্ডও পেশায় চিকিৎসক। আমার এই উদ্যোগে তিনিও খুশি, সাপোর্ট দিচ্ছেন সব রকমের । আমি আমার আব্বু-আম্মুর স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করছি। সুমাইয়ার বাবা রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মীর মোজাম্মেল আলী। স্বপ্ন পূরণে মেয়ের এমন মহত উদ্যোগের বিষয়ে ডা. সুমাইয়ার বাবা মীর মোজাম্মেল আলী বলেন, ইচ্ছে ছিল আমার চার ছেলে-মেয়েই ডাক্তার হবে। তিন মেয়ে ডাক্তার হয়েছে, আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, মানুষের সেবা তারা করবে। আমরা ডাক্তার হতে পারিনি, সেই একটা দুঃখ ছিল আমাদের সময়। যেহেতু আমরা হতে পারিনি, তাই ছেলে-মেয়েদের মধ্য দিয়েই স্বপ্নটা পূরণ করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সানাউল হক মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এটা একটা মহৎ উদ্যোগ। চমৎকার কাজ শুরু করেছে সুমাইয়া। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটাই তো আশা করি। খুবই প্রশংসা করার মতো এটি একটা ভালো কাজ। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে দেখা করবো, উৎসাহ যোগাবো। সে যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে সবারই উচিত হবে উৎসাহ দেওয়া। এতে অনুপ্রাণিত হবে সে ।

সম্পাদনায়ঃ পূরবী রায় ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles